বিতা

"রু এর ভালবাসা" -- কবি~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

রু এর ভালবাসা            

কবি~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

 

আমার রু এর প্রতিটা ফোঁটায় লেখা আমার প্রতি ভালোবাসা,

তাইতো সেদিন রু বুঝেছিল আমার নিঃশব্দতার ভাষা॥

 

আমি হারিয়ে ছিলাম আমার ভালবাসার প্রাণ,

তুমি বোঝালে যে আমি তোমার কাছে কত মূল্যবান;

তাইতো আমিও তোমায় আপন করে নিলাম।

 

এখনও তাজা তোমার সেই স্পর্শ

চোখ বন্ধ করলেই অনুভব করছি তোমার নিশ্বাস..

যেন তুমি এখনও আঁকড়ে ধরে আছ আমার শরীর,

যেন একান্তে আমরা একে অপরকে দিলাম ভালবাসার আশ্বাস॥

ওগো আমায় আরো আরো জড়িয়ে ধরো গো,

শীতের শিশিরে তোমার ঠোঁটের আদ্রতায় অবশ করো গো॥

 

জানি এখনও আমাদের মনে আছে তীব্র স্পৃহা,

যেন আমরা উপভোগ করতে চাই ভালোবাসার শেষ বিন্দু

হয়ত দুজনের আরো অনেক কিছু বলার ছিল,

তাইতো ছোটগল্পটি ফুরাল আর উপন্যাসটি শুরু হল॥

 

~ *স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়*

23rd Jan’25

৯ই মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


Disclaimer: কবিতা টা শেষ হয়েও হয়নি, কারণ এটা কবির কল্পনা মাত্র, সত্যি টা হোক তখন বাকিটাও লেখা হবে...

"বয়স": কবি: স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

বয়স কি কেবলই একটা সংখ্যা?
হয়ত বা ঠিক বয়স ঠিক তাই
কিন্ত তা বলে বয়স কি শিক্ষা নয়,
জীবনের প্রতিটা সময় কি শেখায় না?
 
বয়স কি স্মৃতির পাহাড় নয়,
অনেক জমা থাকা স্মৃতির পাহাড়
ভাল মন্দ ঠিক ভুল সব মিলে একাকার;
সেসব কি সহজে ভোলা যায়?
 
বয়স কি মানুষকে একাকীত্ব দেয় না?
হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীর সান্নিধ্য...
সেই সব নস্টালজিক অনুভূতি গুলো
সেই স্কুল কলেজ থেকে পুরনো কর্মস্থান;
 
বয়স কি আমাদের চিন্তা বাড়ায় না?
সন্তানের বাড়ি ফেরার এক মস্ত চিন্তা!!
ওর ভবিষ্যত কি সুখকর হবে,
জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী কি সুখ দেবে!!
 
বেশি বয়সে কি আমরা বাচ্চা হয়ে যাই?
এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাল মন্দ মুহূর্তগুলো,
এত অল্প প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি গুলো...
সবেতেই কেন এত দুঃখ পাই?
 
যাক গে কেন এসব ভাবছি,
মেয়ে হয়ত বা জ্যামে আটকে...
বয়স্ক ভাতা টা হয়ত কদিন পরে আসবে
সুগারের রিপোর্ট এবার নিশ্চয়ই ঠিক বেরবে।
 
হয়ত মেয়ে ঠিকই বলে বাবা বুড়ো হয়েছ,
জেন জি কে তোমরা কি ঠিক বুঝতে পেরেছ?
না বুঝেও তোরাও তো মাঝে মাঝে মানিস,
অভিজ্ঞতার দাম দিয়ে সাজেশন নিস।
 
তাহলে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা নয়,
বয়স আমাদের ভালোবাসাও দেয়
বয়স আমাদের আনন্দ দুঃখ সবই দেয়
বয়স আবার তেতো মিষ্টি ঝাল সব স্মৃতি বিলোয়।।

“হীরকের দেশ” - ২০২২ সালে লেখা একটি প্রতিবাদী কবিতা; কবিঃ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

হীরকের দেশ

         ~(স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়)

 

কাঁদছে মা, জ্বলছে মাটি, মরছে মানুষ;

পিসি ভাইপোর মুখে শুধু কথার ফানুষ।

 

মরছে আজ ভাদু শেখ, লালন শেখ, নিউটন শেখ আর লাল্টু শেখ;

কেউই এরা নয়কো মাওবাদী নয়কো ফেক ..

মানুষ বলে পড়বে ধরা বি শেখ।

 

ভারতপ্রেমী পীরপন্থী আজ কেন দুশমন?

মিনি পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রেমী আজ কেন হল আপন?

 

পিসি হাঁকে ভাইপো হাঁকে পাপোস হাঁকে জয় বাংলা;

মানুষের করছে ভয়, ভাতাজীবীরা হচ্ছে হ্যাংলা।

 

কালীঘাটের টালির চালা সব চোরেদের পাঠশালা;

বলে বাবুল করল কিনা, চোরেদের দোস্তি কবুল!!

 

ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই, ডিএ নেই, নেইকো মেধার দাম;

চটিচাটা ভাতাজীবীরা তবু বলে হীরকের রানী ভগবান॥

ছুটি ~~ কবি- স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

ছুটি
         স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়
 
বাচ্চারা ছুটি চায় পড়াশনা থেকে
আবার শিক্ষক ছুটি চায় পড়ানো থেকে;
প্রতিক্ষালয়ের যাত্রি ছুটি চায় প্রতিক্ষার থেকে,
আবার ট্রেনের ড্রাইভার ছুটি চায় ট্রেন চালান থেকে॥
 
বাবু ছুটি চায় একঘেয়ে জিবন থেকে একটু রংগিন হতে,
আবার সেই মহিলা হয়ত ছুটি চায় ওই নিষিদ্ধধপল্লি থেকে।
নতুন প্রেমিক পেলে প্রেমিকা প্রাক্তনের থেকে ছুটি চায়
আবার নতুনকে সুযোগ দিতে পুরাতন ছুটি চায়॥
 
বাস্তবে আমরা সবাই ছুটি চাই কিছু না কিছু থেকে,
আমরা হয়ত কেউই প্রকৃত সুখি নই নিজের জীবন হতে;
তবু কেন আমরা সুখের সন্ধানে ছুটে বেরই?
কেন একে ওপরকে হেয় করে সুখ খুঁজে বেরই??
 
কারন হয়ত পশু হতেই মানুষের উৎপত্তি,
তাইত এত লোভ হিংসা আর পাশবিক প্রবৃত্রি॥
 
কি হল আমার আবার, পাগলের মত কি সব ভাবছি!!
নাঃ, এত ভেবে লাভ নেই; তার চেয়ে বরং বসকে ছুটির দরখাস্থটা দিয়েই দি...

আমি আজও বেঁচে আছি

আমি আজও বেঁচে আছি
                                            স্বরূপ চট্টোপাধ্যায় 
(Written by Saroop Chattopadhyay in 2018)


দেখা হলে বলে দিও, আমি আজও বেঁচে আছি;
  হ্যাঁ সত্যিই বলছি, আজও আমি টিকে আছি ।
আরে আমিতো পুরুষ, তাই আমাকে তো থাকতেই হবে;
  যত কষ্টই হোক যত ঝড়ই আসুক আমাকে তো বাঁচতেই হবে।।
 
কিন্তু আমি একা কেন সব সহ্য করব বলতে পারো??
পারবেনা তো!! আরে রত্নাকরের কাহিনী মনে করো; 
পিতা মাতা স্ত্রী সন্তান সব দায় তো পুরুষের,
যাই করো না বাপু, যোগান দেওয়ার দায় তো পুরুষের।।
 
তবে কে যেন বলেছিল আজীবন সুখ দুঃখের সাথি?
  না না সে এক কল্পনা, এখন কেবল সুখেতেই মাতি।
আর দুঃখ? আরে সেটা ত পুরুষের একার;
দুঃখ কষ্টের অধিকার তো কেবল আমার একার।।
 
না না, দুঃখ কষ্টের ভাগটা আমি কাউকে দেব না;
আর আমি তো পুরুষ তাই কাঁদবও না। 
তোমাদের সুখে আনন্দে তো আমারও ভাগ আছে,
কিন্তু আমার এই দুঃখ কষ্টের ভাগ কি কারো আছে?? 
 
যাই হোক তোমাদের সাথে ওদের নিশ্চয় দেখা হবে,
দেখা হলে তো সুখ দুঃখের কথাও হবে।
সাবধান ভুলেও বোলোনা আমি কেমন আছি;

শুধু বলে দিও আমি আজও বেঁচে আছি।।

সীমানা ছাড়িয়ে

                                       কবিঃ স্বরূপ চট্টপাধ্যায় 

চলে যেতে চেয়েছিলাম নিজের সীমানা ছাড়িয়ে…
বসন্ত  হাওয়ায়  দোলা  খেতে খেতে এই ঝিলমিল মনের দাস হয়ে;
কোন এক গুপ্ত স্থানে  সমাজ আর বন্ধনের সীমা ছাড়িয়ে দূরে বহু দূরে,
শুধু তোমাকে আঁকড়ে ধরে তোমার ওই মিষ্টি স্বরটাকে সঙ্গে করে।।


কবি মন তো, তাই হয়ত আমি একটু বেশিই ভেবে নিয়েছিলাম…

কিন্তু সত্যি কি আমি একাই শুধু ভেবেছিলাম

তুমি কি কিছুই ভাবনি, দুজনের এক হওয়ার ভাবনা…

সত্যি কি একটুও উড়েনি তোমার রঙিন মনের পাখনা?? 


কে জানে হয়ত বা এক পলকের জন্য হলেও উড়েছিল...
তার পরক্ষনেই হয়ত বা কোন এক চন্দনের সুবাস এসছিল; 
তার ঘ্রানে হয়ে আচ্ছন্ন ভুলেছিলে তুমি নিজের স্বরুপ, 
আবার হয়ত বা আমিই চলে গেছিলাম নিজের সীমানা ছারিয়ে।।

পাহাড় (Mountain)

                                          --স্বরূপ চট্টপাধ্যায়
(A Bengali poem by Saroop Chattopadhyay)                        

আমি যদি পাহাড় হতাম...
            স্থাবর হয়ে থাকতাম আমার প্রিয় হিমালয়ের মত,
আমার মাথায় থাকত অনেক অনেক বরফ...
জমাট বেঁধে থাকত তারা আমার সব দুঃখের মত।।

আমার বুক চিড়ে তুমি চলে যেতে নদীর মত...
            নেচে নেচে বয়ে যেতে কুলকুল করে।
আর কোন এক পাশে থাকত আমাদের সৃষ্টি...
            ঝর্ণার মত সে হাসত খিল খিল করে।।

বেশ দারুণ হত না ব্যাপারটা!!
            সুখ দুঃখ সব নিয়ে থাকতাম আমি চুপ করে...
কত লোকেই না দেখত আমদের এই সৌন্দর্য ,
            সবার ভালবাসা পেতাম আমরা বুক ভরে।।

কিন্তু হঠাত যদি আমার নিয়তির মত, আসত কোন ভূমিকম্প ...
            কয়েক সেকেন্ডেই করে দিত সে সব ছারখার,
সব হত লণ্ডভণ্ড আর নদীর গতিপথ দিত সে পাল্টিয়ে ...
      চেনা লোকেরাই অচেনা হয়ে বলত তুমি কে? কে আমার?


পারতাম কি আমি হয়ে থাকতে নিঃশব্দ...
      আমার চেনা সেই সবুজ আর সাদা হিমালয় হয়ে??
না বন্ধু, গর্জে উঠতাম আমি করে ভীষণ শব্দ...
  তুমি হয়ত তখন ছেড়ে চলে যেতে আমায় হড়কা বান হয়ে।।

বাঁচা

কবি  স্বরূপ চট্টপাধ্যায়
                                                                                     
                                      কেন আমি বেঁচে আছি?
                                                এত যন্ত্রণা আর দুখ্খ নিয়ে,
                                      এত আঘাত আর কষ্ট সহ্য করে
                                                এই প্রেমহীন সংসারে.

                                      কে জানে হয়ত এখন
                                                এই পত্রাঘাতেই আমার আনন্দ,
                                      কে জানে হয়ত এটাই
                                                আমার নিস্সার্থ ভালবাসার প্রতিদান.

                                      হয়ত আমি বেঁচে আছি
                                                তোমায় শোধরানোর আশায়,
                                      হয়ত আমি বেঁচে আছি
                                                তোমায় সত্যিকারের পাবার আশায়.

                                      আবার হয়ত আমি বেঁচে আছি
                                                কেবল একটি শিশুর মুখ চেয়ে...