হোমরাজনীতি

১৮তম ব্রিকস সামিটে 'নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন' নরেন্দ্র মোদীর সবথেকে বড়ো জিওপলিটিক্যাল উইন ~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

Saroop Chattopadhay
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৮তম ব্রিকস সামিটে 'নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন' নরেন্দ্র মোদীর সবথেকে বড়ো জিওপলিটিক্যাল উইন ~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

গত সপ্তাহে হয়তো বা এই দশকের সবথেকে বড়ো জিওপলিটিক্যাল উইনটা এইমুহুর্তে দিল্লিতে রচনা হয়ে গেল। আর সেটা পশ্চিমা বিশ্ব রীতিমতো টেরও পেয়ে গেছে! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর টিম মিলে ১৮তম ব্রিকস সামিটে অত্যন্ত নিপুণভাবে 'নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন' এর নকশা তৈরি করেছেন। আর এটা কিন্তু স্রেফ কোনো ডিপ্লোম্যাটিক ডকুমেন্ট ছিল না। বরং বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিদের দ্বারা সাক্ষর করা ১৪০ পয়েন্টের এক ম্যানিফেস্টো ছিল। যা পশ্চিমা আধিপত্য থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তাই এটার গভীরে চোখ রাখতেই হবে ভারতের এই মাস্টারক্লাস বুঝতে।

 

​প্রথমত, ব্রিকসের সকল সদস্য দেশ মিলে একটি কার্যকর আলটিমেট অ্যান্টি-ডলার শিল্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিকস ব্লক একযোগে পশ্চিমা বিশ্বের একতরফা স্যাংশন আর ট্যারিফের কড়া সমালোচনা করেছে। এবং ডিপ্লোমেটিক ল্যাঙ্গুয়েজের এর গভীরতা ব্যাপক। এগুলো সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বুলিং করার জন্য এতোদিন ব্যবহৃত হত। আর এবার এর মোকাবিলা করতে সমান্তরাল একটি ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট সিস্টেম বানাতে চলেছে ব্রিকস দেশগুলো মিলে। ফলে ওয়াশিংটন যদি ডলারকে ওয়েপনাইজ করার চেষ্টাও করে, গ্লোবাল সাউথ এখন খুব সহজেই সেটাকে বাইপাস করতে পারবে।

 

​দ্বিতীয়ত, ভারত তাদের নিজস্ব ন্যাশনাল সিকিউরিটির শর্তে পুরো বিশ্বকে একমতে আনতে বাধ্য করেছে। ডিক্লারেশনে ক্রস-বর্ডার টেররিজম আর জঙ্গিদের সেফ হেভেনের কড়া নিন্দাও করা হয়েছে। বিশেষ করে গতবছর এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহেলগাঁ  এ হওয়া পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি হামলার উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত চীন আর রাশিয়াকে এমন একটি ডকুমেন্টে সই করিয়েছে যা সরাসরি স্টেট-স্পনসরড টেররিজমের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করে। আর ঠিক এই কারণেই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ডেসপারেট চেষ্টাকে নতুন দিল্লি পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। আর যাই হোক, পাকিস্তান টেররিজমে ফান্ডিং করে গ্লোবাল টেবিলে একটা সিট আশা করতে পারে না।

 

​তৃতীয়ত, ডিপ্লোম্যাটিক মিরাকল। বছরের শুরুর দিকেই ইরান আর ইউএই (UAE) যুদ্ধের একদম দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। ভারতীয় কূটনীতিকরা আজকে ভোর চারটে পর্যন্ত টানা ব্যাক-চ্যানেল নেগোশিয়েশন চালিয়েছেন, ঐক্যমতের ভিত্তিতে টেবিলে আনতে। আর দুই চরম শত্রুকে এক টেবিলে এনে সংযমের ডাক দিয়ে একটা ইউনিফাইড চুক্তিতেও সই করিয়েছে। আর ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, গ্লোবাল সাউথকে ম্যানেজ করতে পারে এমন একমাত্র স্টেবিলাইজিং সুপারপাওয়ার তারা।

 

​সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউনাইটেড নেশনস(UN) এর দিকেও সরাসরি আঙুল তুলেছেন। বর্তমান গ্লোবাল গভর্ন্যান্স স্ট্রাকচারকে তিনি একটি 'পশ্চিমা প্রিভিলেজ' এর পিরামিড বলেছেন। চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ভারতের ইউএন সিকিউরিটি কাউন্সিলে (UNSC) পার্মানেন্ট সিটের দাবিকে অফিশিয়ালি সাপোর্ট করেছে। তাই ম্যাসেজটা একদম ক্লিয়ার - ওয়াশিংটন আর ইউরোপের কাছ থেকে গ্লোবাল সাউথের অর্ডার নেওয়ার দিন এবার শেষ। আর হ্যাঁ, ভারত এখন আর শুধু ওয়ার্ল্ড অর্ডারে পার্টিসিপেট করছে না, ভারত এখন তা গাইড করছে, ডিক্টেট করছে!

 

#BRICS #BRICS2026 #Geopolitics #DeDollarization #IndianForeignPolicy #NewWorldOrder #MultipolarWorld  #GlobalSouth #UPI #India #Russia #China #Iran #America #DonaldTrump

এই খবরটি শেয়ার করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে সত্য খবর ছড়িয়ে দিন

#BRICS #BRICS2026 #Geopolitics #DeDollarization #IndianForeignPolicy #NewWorldOrder #MultipolarWorld #GlobalSouth #UPI #India #Russia #China #Iran #America #DonaldTrump