হোমভারত

পুণের কেতন আগরওয়াল মার্ডার মিষ্ট্রি; পুরুষদের জন্য না আছে আইন, না আছে অধিকার, না আছে সরকারি ভাতা

Saroop Chattopadhay
২৪ জুন, ২০২৬
পুণের কেতন আগরওয়াল মার্ডার মিষ্ট্রি; পুরুষদের জন্য না আছে আইন, না আছে অধিকার, না আছে সরকারি ভাতা
"তুমি আমার জন্মদিনেই আমাকে একা করে চলে গেলে। আমরা যখন বিয়ের এত কাছে, তখন তুমি কেন চলে গেলে আমি বুঝতে পারি না। কত প্রশ্ন জমে আছে, যার কোনো উত্তর আর পাওয়া যাবে না। কেন তুমি চলে গেলে, যখন আমি তোমাকে এত ভালোবাসতাম? আমার মন বলে তুমি এখনও এখানেই আছো… ফিরে এসো।”

ইন্সটাগ্রামে সিয়া গোয়েলের পোস্ট। 


এই কথাগুলো পড়ে অনেকেই আবেগে ভেসে গিয়েছিলেন। কিন্তু গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি।।
কেতন আগরওয়াল এবং সিয়া গয়েল। তারা বাগদান করেছিল এবং এই বছরই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
 ছবিগুলো দেখে বোঝা যায়, তারা কতটা সুখী, কতটা প্রেমে ডুবে থাকা আর একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ ছিল।


তারা নিশ্চয়ই একসঙ্গে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নির্মম নিয়তির পরিকল্পনা ছিল অন্য কিছু। 
১৮ জুন, সিয়ার জন্মদিনে, মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গে ছবি তুলতে গিয়ে কেতন পা পিছলে নিচে পড়ে যান এবং তাঁর মৃত্যু হয়।
সিয়ার জীবন যেন মুহূর্তে উল্টে যায়। তিনি ভেঙে পড়েন। তাঁর স্বপ্ন, তাঁর ভালোবাসা, আর ভবিষ্যৎ—সব কিছু এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়, তাঁর চোখের সামনেই। শোকাহত সিয়া ইনস্টাগ্রামে কেতনের উদ্দেশ্যে লেখেন হৃদয়বিদারক এই বার্তা।


আর তারপরই উল্টে যায়... 'পাশা'...
পুলিশ এই ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখে গভীর তদন্ত শুরু করে। 
এরপর তাদের দাবি, 
"সিয়া অন্য একজন ২২ বছর বয়সী যুবক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।
 তিনি কেতনকে বিয়ে করতে চাননি, কারণ পরিবার তাঁর জন্য যে বিয়ে ঠিক করেছিল, তা তিনি মেনে নিতে চাইছিলেন না। তাই তাঁকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, সিয়া জন্মদিন উদযাপনের নাম করে কেতনকে লোহাগড়া দুর্গে ডেকে আনেন, যেখানে চেতন আগেই অপেক্ষা করছিলেন। এরপর সিয়া ও চেতন মিলে তাঁকে পাহাড়ের খাদে ফেলে দেন। পরে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।


এর চেয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ঘটনার চার দিন আগেই সিয়া একবার কেতনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে একটি গাছ তাঁর পতন রোধ করে, ফলে তিনি বেঁচে যান। 
হতবাক কেতন যখন জিজ্ঞেস করেন কেন এমন করলে, সিয়া বলে সে নাকি  একটি সাপ দেখেছিলো এবং কেতনকে  বাঁচানোর জন্যই ধাক্কা দিয়েছিলো, যার ফলে তিনি ভুলবশত পড়ে যান। 
কেতন তখন তাঁকে বিশ্বাস করেন এবং আলিঙ্গন করেন।


একাই ব্যর্থ হওয়ায়, সিয়া আবার কেতনকে দুর্গে আসতে রাজি করান, জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে। এবার চেতন সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এবং এবার তারা ব্যর্থ হয়নি।।
একটা নিরপরাধ ছেলেকে মেরে  ফেলতে সফল হয়েছে তারা। 
অবশ্য মেয়েটাকে বলদের মতো বিশ্বাস করেছিলো এটা  কেতনের মস্ত বড় অপরাধ।

 
তারপর  আর কিইবা হবে। 
বড়জোর একবছর জেল, আদালতের চক্কর কাটবে, তারপর বেল পেয়ে যাবে এই সিয়া গোয়েলও।
ঠিক যেমন একবছর আগে হানিমুনে গিয়ে রাজা রঘুবংশীকে মেরে ফেলেও তার বউ সোনম এখন দিব্যি বেল পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 


অন্ততঃ 'প্রণয়পাশা' বা 'খুন ভরি মাঙ' এর মতো কেউ তো আর বেঁচে ফিরে এসে জঘণ্য অপরাধীগুলোকে নিজের হাতে শান্তি দিতে পারবেনা!!!
এরকম সময় মনে হয়, জীবনটা যদি সিনেমা হতো, হয়তো ভালো হতো খুউউব।


Written by Debdutta Sinha Roy

এই খবরটি শেয়ার করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে সত্য খবর ছড়িয়ে দিন