কলকাতার অন্যতম সাংস্কৃতিক পীঠস্থান ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর ভগ্নদশা: সংস্কৃতির আঁতুড়ঘরে রাজনীতির অন্ধকার গ্রাস

বিশেষ প্রতিবেদন: কলকাতা তথা সমগ্র ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পীঠস্থান ‘একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ আজ তীব্র সংকটের মুখে। যে প্রাঙ্গণ একদা কালজয়ী শিল্পীদের মেলবন্ধন ও সৃজনশীলতার মুক্ত বাতাস বয়ে নিয়ে আসত, আজ তা রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ইউনিয়ন, পোস্টার এবং প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতার এক তিমির অন্ধকারে নিমজ্জিত।
দীর্ঘদিন পর একাডেমি প্রেমী মানুষ এবং বিশিষ্ট শিল্পীদের বিশেষ অনুরোধে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হতেই একাডেমি চত্বরে পা রেখেছিলাম আমি স্বরূপ চট্টোপাধায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছি । ইতিপূর্বে ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও একাডেমির এই দুর্দশা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলাম আমি , যার একাধিক তথ্য সংবলিত রিপোর্ট সর্বসমক্ষে এসেছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ প্রায় এক দশক পার হয়ে গেলেও একাডেমির অভ্যন্তরীণ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও অবৈধ কমিটির একাধিপত্য: অভিযোগের মূল তির একাডেমির দীর্ঘস্থায়ী এবং তথাকথিত ‘অবৈধ’ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দিকে। ২০১২ সালে নির্বাচিত হওয়া একটি কমিটির বৈধতা কীভাবে ১৪-১৫ বছর ধরে বজায় থাকতে পারে—তা নিয়ে শিল্পমহলে ইতিমদ্ধ্যেই তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। প্রসূন ব্যানার্জীর মতো ব্যক্তিরা দায়িত্ব থেকে সরলেও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও পছন্দের পুলিশ কর্তারা একাডেমির শীর্ষপদে বসেও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কৃতির প্রাঙ্গণ আজ রূপ নিয়েছে ইউনিয়নবাজি এবং রাজনৈতিক পোস্টার সাঁটার চারণভূমিতে, যা একাডেমির মূল সত্তা ও গরিমাকে কলঙ্কিত করছে।
ঐতিহ্য রক্ষায় যৌথ প্রয়াসের ডাক: একাডেমিকে এই চরম প্রশাসনিক অবক্ষয় এবং পরিকাঠামোগত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্বরূপ চট্টোপাধ্যায় (Saroop Chattapadhay) অর্থাৎ আমি সহ সহ অন্যান্য একাডেমি প্রেমীরা বারংবার সোচ্চার হয়েছেন। শিল্পমহলের দাবি, কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর হাতে এই ঐতিহ্যকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। একাডেমির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং এর সামগ্রিক হাল ফেরাতে অবিলম্বে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার—উভয় পক্ষের একটি মিলিত ও সমন্বিত প্রয়াস জরুরি। একই সঙ্গে অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ এবং বৈধ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করা অত্যন্ত আবশ্যক।
একাডেমির এই অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা শীঘ্রই যথোপযুক্ত প্রশাসনিক মহলে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। বাংলার সংস্কৃতির এই ঐতিহাসিক স্তম্ভটিকে বাঁচাতে এখন সরকার এবং সাধারণ শিল্পপ্রেমীরা কতটা সদর্থক ভূমিকা নেন, সেটাই দেখার।
আমার পুরনো দুটি লেখার লিঙ্কও জুড়ে দিলাম এই লেখার সঙ্গে
https://mamatimanushofwb.blogspot.com/2017/12/a-huge-candle-march-protest-rally-was.html?m=1&fbclid=IwY2xjawSiEk9leHRuA2FlbQIxMABicmlkETFtQnpMdlpVUndoOTJUVUFKc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHobSHKDWVPwUYyQnh3fU-ROlMBozzQoKrpwRpzkqcRgT_ifvozIQd7apYBdt_aem_IlUgQA-dN_Sw6NxDlv1zAQ&sfnsn=wiwspwa
https://mamatimanushofwb.blogspot.com/2018/02/appeal-to-hon-cm-of-west-bengal-smt.html?m=1&fbclid=IwY2xjawSiEnpleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFtQnpMdlpVUndoOTJUVUFKc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHraAWLdohzQ8vZFt9QW96xkf3srMhD34xsAEVskN3aqtBeW4sCICoToy9JO4_aem_NumLaxmqT3ctGXi2QGq8NQ&sfnsn=wiwspwa
