আমি আর বেঁচে নেই.. ~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়

এবার দেখা হলে বলে দিও..
আমি আর বেঁচে নেই;
সত্যিই আমি এবার মরেই গেলাম,
হয়ত মরে গিয়েই বেঁচে গেলাম॥
কিন্তু আমি বেঁচে থাকব সোশ্যাল মিডিয়ায়..
কিছু লোকের মনের আঙিনায়, আকাশে, কুয়াশায়;
তবে নিজের হাতে খুন হতে মন্দ লাগছে না,
বাঁচতে আমি সত্যিই চাইতাম কিন্তু বাঁচতে পারলাম না॥
প্রিয়জনরা সফলভাবে প্রতিশোধ নিল..
তবে অন্যের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে আমায় মেরে ফেলল।
যখন আমি প্রতিক্ষনে খুন হতাম তাদের মুখে থাকত স্নিগ্ধ হাসি,
তবে এখন আমার মৃতদেহ দেখে তারাই কাঁদবে রাশি রাশি॥
কেউ কেউ ভাববে আমার কেন এমন পলায়ন!!
আসলে এই এত বছরে দেখেছি অনেক মুখোশের উন্মোচন।
অনেক সত্য এখানে প্রতি নিয়ত মিথ্যায় পরিণত হয়..
চোর ডাকাত খুনি বেঁচে যায় হলুদ গোলাপ দিয়ে স্তাবকতায়॥
হ্যাঁ আমিও হয়ত পারতাম অসৎ ধান্দাবাজ হতে..
চটি চেটে বা সেটিং করে বিত্তশালী হতে;
কিন্তু আমার যে মাথায় চাপল নীতি, সততার ভুত..
কর্পোরেট দুনিয়ার নিশ্চিত রোজগার ছেড়ে অন্যায়ের সঙ্গে লড়ার ভুত॥
কিন্তু রাজনীতি সমাজসেবাও তো মতলবিদের রাজত্ব;
তাই সেখানেও যে হল মোহভঙ্গ, রাজনীতিরও হাজারও রঙ্গ।
খারাপ যেখানে ভাল হয়, পাপকে বাঁচায় রাজনৈতিক গুরু,
কারণ কলি যুগে হয়েছে যে কামিনী কাঞ্চন মদিরা শুরু॥
আজ আমি সকলের মধ্যেও বড় একা…
সন্ত কবীর ঠিকই বলেছিলেন;
সকলেই কেবল সুখের সাথী
দুঃখের সময় সবাই দেয় ফাঁকি॥
শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ মনের মানুষ খোঁজে…
কিন্তু সেই যে অভাগা যেদিকে চায়
সাগরও শুকায়ে যায়।
তাই ছুটে গিয়ে দেখি সবই কেবল মরীচিকা,
কিন্তু আসলে যে সবই কেবল আশাকে ডাকা॥
তুমি আমায় দিয়েছিলে কল্পনার ভালবাসা,
বুঝিনি যে তোমার হাতেই খুন হবে সকল আশা।
না কেউই দোষী নয়, সকলেই নিজেরটাই দেখবে,
আবার হয়ত আমার মৃত্যুর পর সকলের হাতেই রক্ত থাকবে॥
__________________________ ওঁ শান্তি
