হোমরাজ্য

অভিষেকের চার্টার্ড বিমান বিতর্কে ইডির দাবি: ১৬০ কোটি টাকার লেনদেনে ‘সার্কুলার ট্রেডিং’-এর অভিযোগ, তদন্তে নতুন মোড়

Saroop Chattopadhay
১৪ জুলাই, ২০২৬
অভিষেকের চার্টার্ড বিমান বিতর্কে ইডির দাবি: ১৬০ কোটি টাকার লেনদেনে ‘সার্কুলার ট্রেডিং’-এর অভিযোগ, তদন্তে নতুন মোড়

নিজস্ব সংবাদদাতা | স্পষ্টবার্তা নিউজ


রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক পুরনো মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচ এবং তার আর্থিক উৎস নিয়ে তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) মঙ্গলবার কলকাতার পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

 

ইডি সূত্রের দাবি, রাধাবাজারে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের অফিস এবং সংস্থার কর্তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল তথ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি বড় অংশ সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি এমব্রেয়ার চার্টার্ড বিমান এবং একটি অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনা হয়। এরপর সেই একই বিমান হেলিকপ্টার তৃণমূলকে ভাড়ায় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এর ফলে বিমান ভাড়ার নামে পুনরায় দলের অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কাছে ফিরে যায়, যাসার্কুলার ট্রেডিংবা চক্রাকার আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

 

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “এসব কিছুই জানতাম না। ইডি যা বলছে, তা সত্যি হলে গোড়া পর্যন্ত তদন্ত হোক এবং সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসুক।তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

 

তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তদন্ত যত এগোবে, ততই এই মামলার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

 

ইডির মূল অভিযোগ (সংক্ষেপে)

 

২০২৩২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার লেনদেন।

 

১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমান হেলিকপ্টার কেনার অভিযোগ।

 

একই সম্পদ পুনরায় ভাড়ায় ব্যবহার করে অর্থ ঘুরিয়ে আনার অভিযোগ।

 

পাঁচটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নথি ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত।

 

তদন্ত এখনও চলমান; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচার তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

 

 

বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলি ইডির দাবি তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলির বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে বিষয়টি পরিবর্তিত হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে সত্য খবর ছড়িয়ে দিন